কোয়াব (চিটাগাং-এর আঞ্চলিক খাবার)

কোয়াব (চিটাগাং-এর আঞ্চলিক খাবার)

কোয়াব (চিটাগাং-এর আঞ্চলিক খাবার)

রেসিপি ও ছবিঃ আনার সোহেল

কোয়াব কি এবং কেন, কিভাবে সংরক্ষণ করা হত “কোয়াব” এটা চিটাগাং এর ভাষায় বলে। এটা বেশ পুরু করকরা ভাজা মাংস। এটাকে কোয়াব বলে। আমার মতে, আধুনিকতার ছোঁয়া আসে নি যখন গ্রামগুলোতে ফ্রীজের প্রচলন ছিল না তখন মাংসকে কোয়াব বানিয়ে সংরক্ষণ করতো বেশ কিছুদিনের জন্য। সেই ছোট বেলা থেকেই দেখেছি দাদিকে এই কোয়াব বানিয়ে সংরক্ষণ করতে। ফ্রীজের প্রচলন আসার পর ও বানিয়ে ফ্রীজে রাখতো। আজ আমি একটু চেষ্টা করলাম সেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া খাবার তুলে ধরতে।

উপকরণ: গরুর চাকা মাংস ৩ কেজি (বেশ পুরু করে কাটতে হবে)
লাল মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ
জিরা-ধনে গুঁড়া ২ চা চামচ
গরম মশলা ১ চা চামচ
আদা বাটা ২ টে চামচ
রসুন বাটা ২ চা চামচ
তেল বা চর্বি ২-৩ টে চামচ ২-৩ টুকরা (চর্বির বদলে তেল দেয়া ভাল কেননা এখন আমরা ফ্রীজে সংরক্ষণ করতে পারি)
লবণ পরিমাণ মত

কোয়াব ভাজার উপকরণঃ দারুচিনি ২ টুকরা
তেজপাতা ২-৩ টি
লবঙ পরিমাণমতো
এলাচ পরিমাণমতো
তেল ৩ কাপ বা গলানো চর্বি

রান্না করার নিয়মঃ প্রথমে মাংস পুরু টুকরা করে নিয়ে ধুয়ে নিন। এখন রান্নার সব উপকরণ দিয়ে মেখে নিয়ে চুলায় দিয়ে মিডিয়াম আচেঁ রান্না হতে দিন। মাংস থেকে পানি বের হবে। তাতে কিছুক্ষণ রান্না করুন। পানি একদম শুকায় আসলে ২ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে হবে। পানি শুকায় গেলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিয়ে চুলায় রেখে দিন। কিছুক্ষণ পর পর মাংস নেড়ে উপুড় নিচু করে দিন। এভাবে একদিন রান্না করে রাখুন। দু দিন পর পর চুলায় জ্বাল দিন। পরের দিন অন্য মোটা কড়াইতে তেল গরম করে রান্না করা মাংস মশলা ছাড়াই তেলে ভাজুন। একদম কম আঁচে চুলায় বসিয়ে রাখুন ঢাকা ছাড়াই এবং মাঝে মাঝে নাড়ুন। ভালো মত যেন ভাজা হয়। কালো ভুনা হলে নামিয়ে একদম ঠান্ডা করে বক্সে ভরে রাখুন। প্রয়োজনে বের করে কুচি কুচি করে পেঁয়াজ ও মরিচ দিয়ে ভেজে টমেটোর টক বা ডাল দিয়ে গরম ভাতে পরিবেশন করুন বা ভর্তাও বানাতে পারেন।

রেসিপি.ঘুড়ি.বাংলা একটি ওয়েব ম্যাগাজিন। রেসিপি.ঘুড়ি.বাংলা, ঘুড়ি এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। “রেসিপি.ঘুড়ি.বাংলা“ হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গল্প ও কবিতার ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের ওয়েবসাইটটি দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে যেতে সক্ষম হয়েছে।